মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

শিবপুর ইউনিয়নের ইতিহাস

 

বাংলাদেশের গ্রামসমূহের নামকরণের ইতহাস বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিভিন্ন গাছের নামে, মাছের নামে, নদীর নামে, জাতির নামে, বিশেষ ব্যক্তির নামে গ্রাম, শহর, বাজার, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগের নামকরণ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সেই অনাদি কাল থেকে মাছের ও গাছের প্রাচুর্যের প্রমাণ বহন করছে। চিতলমারী উপজেলার গ্রাম ও ইউনিয়নসমূহের নামকরণের এই ধারা ও ঐতিহ্য থেকে বিছিন্ন নয়। যেমন- চিতল মাছের নামে চিতলমারী, বোয়াল মাছের নামে বোয়ালিয়া এবং হিজল গাছের নামের হিজলা ইউনিয়ন বা গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে। শিব হিন্দুদের পূজ্য দেবতা। সিন্ধু সভ্যতার নির্মাতা দ্রাবিড় জাতির দেবতা আস্পায়নই পরিবর্তিত শিব। ‘পুর’ শব্দটিও দ্রাবিড় শব্দ। পুর অর্থ সুরম্য অট্যালিকা শ্রেণী বেস্টিক নগর বা শহর। সিন্ধু নদীর অববাহিকায় হরপ্পা ও মহেনজোদাড়েতে খ্রিষ্টপূর্ব 2500 অব্দে প্রাচীন দ্রাবিড় জাতি এক উন্নত নগর সভ্যতার গড়ে তোলে। এশিয়া মাইনর থেকে আগত যাযাবর আর্য জাতি উন্নত নগর সভ্যতার ধ্বংস সাধান করে। আর্যদের যুদ্ধ-দেবতার নাম ছিল ইন্দ্র। যুদ্ধে ইন্দ্র দ্রাবিড়দের ‘পুর’ ধ্বংস করে বিজয় সূচিত করেন বলে তাঁর নাম হয় ‘পুরুন্দর’ বা পুর (অট্রালিকাময় নগর) ধ্বংসকারী। ইন্দ্রের অনার্য দ্রাবিড় জাতি বিরোধী ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে পূজ্য দেবতার তালিকা থেকে বর্জিত হন। হিন্দু দেবতা শিবের নামে গ্রামের না ‘শিবপুর’। এ গ্রামেরই এক পীর সিরাজুম মুনির তাই শিবপুরের নাম পাল্টিয়ে রাখলেন ‘সিরাজনগর’। কিন্তু কাগজে কলমে নামটি চালু করা যায়নি। এ নামটি সকলের মুখে উচ্চারিত না হলেও  অপরিচিত নয় মোটেই।  এই শিবপুর গ্রামের সাথে আরো কয়েকটি গ্রামকে সংযুক্ত করে গঠন করা হয় শিবপুর ইউনিয়ন।

 

১৯৭০ সালে ‘বেঙ্গল ভিলেজ চৌকিদারি অ্যাক্ট’ এর অধীনে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এককেকটি ইউনিয়ন গঠিত হয়। ১৭৭৫ সালে ‘লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্টে’র অধীনে প্রতি জেলায় একটি করে জেলা বোর্ড  এবং কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। ১৯১৯ সালে ‘বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট’ অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি ইউনিয়ন বোর্ড নাম দেয়া হয়। ১৯৫৯ সালে আইয়ূব খান এক আদেশে ইউনিয়ন বোর্ডকে ইউনিয়ন কাউন্সিল নাম দেন। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশে ইউনিয়ন বোর্ডের নাম রাখা হয় ইউনিয়ন পঞ্চায়েত। পরে এ আদেশ বাতিল করে ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির ২২নং আদেশ বলে ইউনিয়ন পঞ্চায়েতের বদলে ইউনিয়ন পরিষদ নাম রাখা হয়। এখন অবধি এটি বহাল আছে।

 

স্বাধীনতা-উত্তরকালে ইউনিয়ন নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে।  কালে কালে চিতলমারী উপজেলাধীন ইউনিয়ন বোর্ড, ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট/ চেয়ারম্যান পদে এক বা একাধিকবার দায়িত্ব পালনকারীদের নামের তালিকাঃ

১।বৈষ্টম দাদস বিশ্বাস, বড়বাক

২।রাজেশ্বর আটফড়িয়া, লক্ষীপুর

৩।আবদুল হামিদ খলিফা, কলিগাতী*

৪।শেখ কায়েম আলী, শিবপুর***

৫।ফজলুর রহমান মীর, শিবপুর, রিলিফ চেয়ারম্যান

৬।শেখ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, শিবপুর

৭।শেখ মকবুল হোসেন, শিবপুর (ভারপ্রাপ্ত)

৮।শেখ কামরুজ্জামান, শিবপুর

৯।আবদর রব হাজী, কলিগাতী

১০।শেখ কেরামত আলী, নালুয়া

১১।শেখ বাদশা, শিবপুর


Share with :

Facebook Twitter